পিরোজপুরে ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় দুর্নীতি ও ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

0
170
পিরোজপুরের পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ‘পকেট কমিটি’ ও নিয়োগ বাণিজ্যের হিড়িক / ছবি - এই বাংলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি :


পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি বই অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পকেট কমিটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৬৫ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পেছনে যাঁদের অবদান ছিল, বর্তমান কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলেছে। বর্তমান সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিজেদের প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসার আশপাশের সম্মানিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্য উপজেলার লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সহযোগিতায় কোনো নিয়োগ বোর্ড বা সরকারি বিধি অনুসরণ না করে কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বিনিময়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। এ অনিয়মে বর্তমান সভাপতি, সহ-সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবুও প্রতিবছর সরকারি পাঠ্যবই উত্তোলন করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ না করে কেজি দরে দোকানে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে পিরোজপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার তদন্তকারী দল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলে এলাকাবাসী তাদের অভিযোগ ও ক্ষোভ তুলে ধরেন। তারা দাবি জানান—সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার সব কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হবে এবং অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, সরেজমিনে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here