ডিমলায় বুড়ি তিস্তা খনন প্রকল্প ঘিরে সহিংসতা: আনসার ক্যাম্পে হামলা ও কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

0
165
ডিমলায় পুলিশ,সেনাবাহিনী আনসার উপস্থিতিতে ক্যাম্পে হামলা গুলি লুটতারাজ ভাঙচুর / ছবি - এই বাংলা

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেই দুর্বৃত্তরা কালীগঞ্জ এলাকায় একটি আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটতরাজ করে।

এ ঘটনায় আনসার সদস্যদের ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড গুলি লুটের পাশাপাশি প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় আনসার ক্যাম্পের সদস্যদের থাকার কক্ষ, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরকারি মালামাল ভাঙচুর করা হয়। একইসঙ্গে বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকেভেটরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কয়েক শতাধিক মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে ক্যাম্পে হামলা চালায় এবং ব্যাপক লুটপাট শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ডিমলার কুঠির ডাঙ্গা এলাকার কিছু জনগোষ্ঠী সংগঠনের সঙ্গে বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিমলা অংশে খননকাজ শুরুর প্রস্তুতি নিলে স্থানীয়দের একাংশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ওইদিন কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সন্ধ্যার দিকে আলীম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, আনসার ক্যাম্প ও নদী খনন প্রকল্পে হামলার ফলে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ডিমলা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here