কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে থানা পুলিশ। গত কয়েক মাসে ৮১ কেজি ৫৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৬১৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মাদক কারবারের অভিযোগে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন অষ্টগ্রাম থানার ওসি মো. রোকনুজ্জামান।
জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান নিজ হাতে তাঁর কাছে পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কটিয়াদী সার্কেলসহ জেলার বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওসি মো. রোকনুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত থানায় মোট ৯৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকসংক্রান্ত মামলা ৩২টি। এসব মামলার পাশাপাশি মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ৫৬ জন মাদক কারবারি ও একজন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ৮১ কেজি ৫৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৬১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন ওসি মো. রোকনুজ্জামান। তাঁর নেতৃত্বে মাদক কারবারি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের প্রকৃত সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু বাহক কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেই চলবে না। মাদকের মূল সরবরাহকারী, বড় ডিলার ও নেপথ্যের কারবারিদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
অষ্টগ্রামের সাধারণ মানুষ পুলিশের এই তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই মাদক নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
হাওরাঞ্চলের অষ্টগ্রামকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন মহল।
জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “আপনাদের সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় কিশোরগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বিবেচিত হয়েছি। এ অর্জন আমার একার নয়, এটি অষ্টগ্রাম থানার সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
তিনি মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই স্বীকৃতি অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনবে। একই সঙ্গে মাদকের মূল হোতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে অষ্টগ্রামকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
এই বাংলা/এমএস