শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা, চাঙা স্থানীয় ব্যবসা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে শ্যামা পূজার ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। শহরের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে এসেছেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি হিসেবে পরিচিত এই সৈকতে। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে পুরো পর্যটন এলাকায়।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। ছুটির আমেজে আসা দর্শনার্থীরা সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন, কেউ বালুচরে খেলাধুলা করছেন, আবার কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পর্যটকদের ভিড়ে খাবারের হোটেলগুলোর ব্যবসাও জমে উঠেছে।

তিনি আরও জানান, শুধু জিরো পয়েন্ট নয়, ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের লেম্বুর বন, চর গঙ্গামতি, শুঁটকি পল্লি ও কুয়াসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পর্যটকদের চাপ বাড়ায় কুয়াকাটার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, কুটিরশিল্প ও ঝিনুকজাত পণ্যের দোকান। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ছুটি উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান

সমুদ্রস্নানের পাশাপাশি পর্যটকেরা কুয়াকাটার আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

– কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত: প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।

– ঐতিহাসিক কুয়া ও রাখাইন পল্লি: কুয়াকাটার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন কূপ দেখতে এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, জীবনযাপন ও হস্তশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হতে কেরানীপাড়া ও মিশ্রিপাড়ায় যাচ্ছেন পর্যটকেরা।

– সীমা বৌদ্ধবিহার: এখানে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো, আনুমানিক ৩৫০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর তৈরি গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

– ফাতরার বন ও লেম্বুর বন: কুয়াকাটার পশ্চিমে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন ফাতরার বন, যা ‘দ্বিতীয় সুন্দরবন’ নামে পরিচিত। এসব এলাকায় ট্রলার বা মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ান প্রকৃতিপ্রেমীরা।

– লাল কাঁকড়ার চর: গঙ্গামতির চর ও আশপাশের এলাকায় সকালে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি দেখতে পর্যটকদের ভিড় জমে।

কুয়াকাটায় যাতায়াত

পদ্মা সেতু ও পায়রা সেতু চালুর পর কুয়াকাটার সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসি ও নন-এসি বাসে সরাসরি কুয়াকাটায় যাওয়া যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, আরামবাগ ও আবদুল্লাহপুর থেকে গ্রীনলাইন, সাকুরা, শ্যামলী ও হানিফসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস চলাচল করে। এ ছাড়া বরিশাল হয়ে লঞ্চ ও সড়কপথেও কুয়াকাটায় যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটকদের এমন উপস্থিতি কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর