শরতের শেষ সময়ে ঝকঝকে নীল আকাশ আর মেঘমুক্ত পরিবেশে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে হিমালয়ের তুষারশুভ্র পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রতি বছরের মতো এবারও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গটির নয়নাভিরাম দৃশ্য। সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে সূর্যোদয়ের পর স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর রূপ।
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত শীতের আগমুহূর্তে মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যায়। তবে এ বছর সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই কোনো কোনো দিন এর দেখা মিলেছে বলে জানান তাঁরা। প্রতিবছর এই সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক।
সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনেক সময় ভালোভাবে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। পরে ক্রমে তা ঝাপসা হয়ে দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। বিকেলের শেষভাগে সূর্যের তির্যক আলো বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ে পড়লে আবারও দেখা দিতে পারে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
মেঘ ও কুয়াশামুক্ত আকাশে পঞ্চগড়ের উত্তর-পশ্চিম দিকে তাকালে দূরে সাদা বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি চোখে পড়ে। সূর্যোদয়ের আগে পাহাড়গুলো কিছুটা কালচে দেখালেও সূর্যের আলো পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙে আসে পরিবর্তন। কখনো লালচে, কখনো কমলা ও হলুদাভ আভা ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের গায়ে। পরে তা আবার সাদা রূপে ধরা দেয়। আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে এই মনোরম দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার বা প্রায় ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর মধ্যে এটি তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্ট এবং দ্বিতীয় অবস্থানে কে-টু।
বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পর্বতশৃঙ্গ দেখতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল, সান্দাকফু ও ফালুটে পর্যটকেরা ভিড় করেন। তবে বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করতে অনেকেই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় আসেন। অনুকূল আবহাওয়ায় এখানকার বিভিন্ন স্থান থেকে খালি চোখেও পর্বতশৃঙ্গটি দেখা যায়।
কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও পিকনিক স্পট। প্রতিবছর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ও বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয়।
এই বাংলা/এমএস