সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আস্থার মর্যাদা দিতেই চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

 

চট্টগ্রাম: বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির প্রতি যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা দিতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে আসছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে নগরের পাহাড়তলীর সাগরিকা মোড়ে আয়োজিত স্বাগত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করেন তিনি।

সাঈদ আল নোমান বলেন, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম একটি বিশেষ ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। নগরীতে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীর বসবাস। ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেএম সেন হলে এসেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতা, ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এবার তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই পূজামণ্ডপে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, মানবতা মানুষের পরিচয় এবং সম্প্রীতি সমাজের বড় শক্তি। বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও মানবতা প্রার্থনারই অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রাজনীতি মানে প্রার্থনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সমাজের কোনো অংশের মানুষ কষ্টে থাকলে তার প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়ে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে সংসদ সদস্য বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহযোগিতাও করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিএনপি ও সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তাঁদের পাশে রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা যে আস্থা রেখেছেন, এখন সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব তাঁদের। মানুষের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ার কথাও বলেন তিনি।

সাঈদ আল নোমান দাবি করেন, সাড়ে ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা সরকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে কী কাজ করেছে, তা দেখাতে পারবে না। ওই সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

সমাবেশ শেষে সাগরিকা মোড় থেকে আনন্দ মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সাঈদ আল নোমান কাঁধে ঢাক নিয়ে বাজিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে পূজা উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলালের সভাপতিত্বে এবং পাহাড়তলী থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুর রহমান স্বপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন, সদস্য আবুল হাশেম ও মোশাররফ হোসেন ডিপ্টি, হালিশহর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, পাহাড়তলী থানা পূজা কমিটির সভাপতি মিঠুন সরকার, হালিশহর পূজা কমিটির সভাপতি লিটন দেবনাথ লিখন, খুলশী পূজা কমিটির সভাপতি দেবাশীষ মজুমদার, পাঁচলাইশ পূজা কমিটির সভাপতি শুভাশীষ চৌধুরী, ডাবল মুরিং পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিন্টু শীল, সবুজ সংঘের সভাপতি মিল্টন চন্দ্র দাশ, বিকাশ শর্মাসহ বিভিন্ন পূজা কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর