কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় একটি আলিম মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে জমি ও অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহায়ক পদে ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে নিয়োগ এবং কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নিয়োগ পরীক্ষা অধ্যক্ষের বাড়িতে নেওয়া এবং ফলাফল ঘোষণায় আনুষ্ঠানিকতার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. খলিলুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লী তালুয়াপাড়া হামিদিয়া আলিম মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিস সহায়ক পদে উমর মজিদ ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. সুমন মিয়াকে ২০ শতাংশ জমির বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে মো. হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মো. সাদেকুর রহমানের কাছ থেকে আরও ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মাদ্রাসার পরিবর্তে অধ্যক্ষের নিজ বাড়িতে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তিনটি পদের বিপরীতে মাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থী দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় প্রতিবেশী ও বাসিন্দা মো. রোস্তম আলী বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় যেসব পরিবারের সদস্যরা ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের উপঢৌকনের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদ্রাসার জমিদাতা মো. আব্দুল জব্বারের নাতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির খবর পেয়ে আবেদন করতে গেলে অধ্যক্ষ তাঁকে আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে বলে জানান। তাঁর এ বক্তব্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া মো. সুমন মিয়া তাঁর নিয়োগের বিনিময়ে জমি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো. আতাউর রহমান বকসী বলেন, নিয়োগে টাকা লেনদেন হয়নি। তবে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে কয়েকজন তাঁকে জানিয়েছেন। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. খলিলুর রহমান বলেন, যথাযথ নিয়োগবিধি অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০ শতাংশ জমি তিনি নিজের টাকা দিয়েই কিনেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস