নাটোরের নলডাঙ্গায় সরকারি জায়গা দখল ও গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ ২৬ বছরের পুরনো গোরস্থানের রাস্তা ও মরদেহ রাখার ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম মাধনগর জোয়ানপুর এলাকার বুলবুল ও মৌসুমি খাতুন দম্পতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
মাধনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনসার আলী সরদার, জোয়ানপুর কেন্দ্রীয় গোরস্তান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নূর ইসলাম, আসরাফ শাহসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, বুলবুল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে গোরস্থানের রাস্তা ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গা দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গোরস্থান ও সরকারি জায়গায় গাছ লাগিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব গাছের ডালপালা ছড়িয়ে পড়ায় গোরস্থানে মরদেহ নিয়ে যাতায়াতের সময় সমস্যায় পড়তে হয়। সম্প্রতি এলাকাবাসী গাছের অতিরিক্ত ডালপালা পরিষ্কার করতে গেলে বুলবুল দম্পতি এতে বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, পশ্চিম মাধনগর জোয়ানপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোরস্থানের মরদেহ রাখার ঘর, প্রাচীর নির্মাণের জায়গা ও যাতায়াতের রাস্তা দখলের মতো ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোরস্থানে যাতায়াতের রাস্তার ওপর আমগাছের ডালপালা পড়ে মরদেহ বহনে সমস্যা তৈরি হলে এলাকাবাসী বুলবুলকে সঙ্গে নিয়েই তা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। তবে রাস্তা পরিষ্কারের পর থেকেই বুলবুল ও মৌসুমি খাতুন দম্পতি এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে তোপের মুখে রাখছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
অন্যদিকে, বুলবুল দম্পতির অভিযোগ, গত শুক্রবার দুপুরে পশ্চিম মাধনগর জোয়ানপুর এলাকায় তাদের বাবার বাড়ির সামনে সরকারি জায়গায় লাগানো চারটি ফলজ আমগাছের বড় বড় ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে।
তাদের দাবি, স্থানীয় আশরাফ শাহ, তার ছেলে শাকিল শাহসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গাছগুলোর ডালপালা কেটে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। মাধনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তফসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস