বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মোড়কের সামনে স্বাস্থ্য সতর্কীকরণ লেবেল (Front-of-Pack Labeling—FOPL) চালুর উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিতে ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম (লবণ) ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কের সামনে সহজে দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সতর্কীকরণ লেবেল থাকলে ভোক্তারা খাদ্যের পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা নিতে পারবেন এবং সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং চালু হলে ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অসংক্রামক রোগের বোঝা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে সিএলপিএ-এর সহযোগিতায় কসমসের পক্ষ থেকেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেটজাত খাদ্যে স্বাস্থ্য সতর্কীকরণ লেবেল চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ দ্রুত চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সংসদ সদস্যের এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস