বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে জেলার ফকিরহাটে এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পৃথক দুটি ঘটনায় এসব মৃত্যু ঘটে।
মোল্লাহাট উপজেলার দারিয়াতলা গ্রামে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো—জান্নাতি (১১) ও লামিয়া (৮)। জান্নাতি স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাইন শেখের মেয়ে এবং লামিয়া মোস্তাক শেখের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের অজান্তে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে শাপলা তুলতে নামে দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে ঘেরে মাছের খাবার দিতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন পানিতে তাদের ভাসতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই শিশুর মৃত্যুতে তারা শোকাহত। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের হোচলা গ্রামে সুজন শেখ (২৩) নামে এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোরে সুজনের স্ত্রী হোসনেআরা বেগম ঘুম থেকে উঠে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে জেলার দুটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস