সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন

৭ বছর আগে বন্যায় ভেঙেছে সেতু, কাঠের সাঁকোই ভরসা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

২০১৯ সালের বন্যায় সেতু ভেঙে যাওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় সাত বছর। অথচ সেই সেতুর জায়গায় এখনো নির্মিত হয়নি নতুন কোনো সেতু। ভাঙা সেতুর ওপর কাঠের সাঁকো বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে চলছে মানুষের যাতায়াত।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী বাজার এলাকায় প্রতিদিন এই সাঁকো পেরিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় পানির স্রোত বাড়লে সেই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চর শৌলমারী বাজারের এই পথ দিয়ে প্রতিদিন সুখের বাতির চর, উত্তর খাউরিয়া, পশ্চিম খেদাইমারী, কলেজপাড়া, চরঘুঘুমারী, গেন্দার আলগাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই তাদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।

এ পথে রয়েছে চর শৌলমারী মহাবিদ্যালয় ও চর শৌলমারী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও নড়বড়ে সাঁকোটি পার হতে হয়। বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বাড়লে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এর ওপর দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চলাচল করছে। একসঙ্গে একাধিক যানবাহন চলাচলের সময় সাঁকোটি দুলতে থাকে। যানবাহন সাঁকোর ওপর উঠলে ভয়ে অনেক পথচারী পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফুলচান শিকদার বলেন, ‘২০১৯ সালের বন্যায় সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা খুব কষ্ট করে চলাচল করছি। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। এত বছর হয়ে গেল, কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হলো না।’

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন জানিয়ে স্থানীয় মো. শরিফুল মিয়া ও মো. তোফাজ্জল শিকদার বলেন, ‘বাজার, স্কুল-কলেজ ও প্রয়োজনীয় কাজে যেতে হলে এই সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’

চর শৌলমারী বাজারের ব্যবসায়ী মো. মুন্না শেখ বলেন, ‘সেতু না থাকায় শুধু যাতায়াতেই সমস্যা হচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। দূরের চরাঞ্চলের মানুষ বাজারে পণ্য নিয়ে আসতে ঝুঁকি ও বাড়তি সময়ের মুখে পড়েন। একটি স্থায়ী সেতু হলে এ এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে।’

ঘোড়ার গাড়িচালক মো. জবিউল মিয়া বলেন, ‘ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে এই সাঁকো পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একটু এদিক-ওদিক হলে গাড়ি উল্টে যেতে পারে। তবু বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে সাঁকো দিয়েই যেতে হয়।’

রৌমারী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘সেখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শৌলমারী বাজার থেকে ওই রাস্তার ৮০০ মিটার সড়কে খুব দ্রুত কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হবে।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর