মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, ২৪ ঘণ্টায় মিলছে না ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। কোনো কোনো এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং প্রতিবার দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও পড়েছে বিপাকে। কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান, ওয়ার্কশপ, সেলুনসহ বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে। অনলাইন ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং ও ইন্টারনেটনির্ভর কাজের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা।

তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক পরিবারে স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত পানির পাম্প ব্যবহার করতে না পারায় কোনো কোনো এলাকায় পানি সংগ্রহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর প্রভাব কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, জাতীয় গ্রিডের সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর