কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকা জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফসল। মাঠজুড়ে এখন হতাশা আর অনিশ্চয়তা। ক্ষতির হিসাব কষে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
সোমবার (৬ জুলাই) জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানিতে পটল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু এক দফা বন্যাতেই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, “বন্যার পানিতে আমার বিভিন্ন ধরনের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
একই এলাকার কৃষক আবু বকর বলেন, “আমার বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আবার ঘুরে দাঁড়ানো খুব কঠিন হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা সম্পন্ন করে তাদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হোক। তাদের মতে, সময়মতো সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যেসব জমিতে আগের ফসল নষ্ট হয়েছে, সেখানে কৃষকরা নতুন করে মরিচ, বেগুন, শসা ও বিভিন্ন শাকজাতীয় ফসলের আবাদ করতে পারেন। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে মাসকলাই চাষ একটি লাভজনক বিকল্প হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু সামনে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, তাই কৃষকদের উঁচু জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পাটের গাছ ইতোমধ্যে বড় হয়ে যাওয়ায় এ ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।