বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছিনতাই মামলার আসামি ধরতে গিয়ে সোনারগাঁওয়ে পুলিশের ওপর হামলা: আহত ৪, গ্রেপ্তার ২

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্স। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন। পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুরুজ্জামান, কনস্টেবল শাহীন, কনস্টেবল মাইনুল এবং পুলিশের সোর্স মাসুম মিয়া। আহত পুলিশ সদস্যরা সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত মাসুম মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

আহত এসআই সুরুজ্জামান জানান, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের মামলার অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে দুই কনস্টেবল শাহীন ও মাইনুলকে সঙ্গে নিয়ে সাতভাইয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাগর ও তার ভাই সজল ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের সোর্স মাসুম মিয়াকে কুপিয়ে আহত করেন।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাই সাগর ও সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়