রৌমারী সীমান্তে ১৩ দিন ধরে শূন্যরেখায় তিন যুবক, মানবেতর জীবনযাপন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’-এর চেষ্টার পর তিন যুবক ১৩ দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তে নজরদারি বজায় রাখলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

জামালপুর বিজিবি-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবকের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন যুবক শূন্যরেখার কাছে মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে অবস্থান করছেন। রোদ থেকে বাঁচতে নিজেদের পোশাক টাঙিয়ে অস্থায়ী ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন। বিজিবি ও বিএসএফের আপত্তির কারণে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্যরেখায় অবস্থানরত তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ হোসেন (২১)। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যেই তিন যুবক খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মাথার ওপর কোনো ছাউনি নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

এর আগে গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

পরে গণমাধ্যমে মা ও শিশুদের মানবিক সংকটের খবর প্রকাশের পর ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ একটি দম্পতিকে এবং ২৩ জুন একই সীমান্ত থেকে আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ওই তিন যুবক এখনও ১৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন।

বিজিবি-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসানুর রহমান বলেন, “রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তে বর্তমানে কেউ নেই। তবে ইজলামারী সীমান্তে তিন যুবক শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই কঠোর রয়েছে।”

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here