ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাপাড়া মৌজা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক বর্গাচাষির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মধ্য ছাতনাই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে মশিয়ার রহমান মাস্টার। তিনি জানান, দক্ষিণ বালাপাড়া মৌজার ১৭০ ও ১৭২ নম্বর দাগে তার মোট ১ দশমিক ০৫ একর জমি রয়েছে। বাড়ি থেকে জমির অবস্থান প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ১৭০ নম্বর দাগের ৫৫ শতাংশ জমি তিনি বালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুলতানের কাছে বার্ষিক ভিত্তিতে লিজ দেন।
মশিয়ার রহমানের অভিযোগ, দূরত্বের সুযোগ নিয়ে তার বর্গাচাষি সুলতান, তার ভাই ও চাচারা মিলে রাতের আঁধারে জমি থেকে মাটি ও বালু কেটে উত্তোলন করছেন। এতে ব্যবহৃত হচ্ছে স্থানীয় ব্যক্তি তৈবুলের ছেলে সাবুলের ভেকু (খননযন্ত্র)। পরে মাহিন্দ্রা ট্রলির মাধ্যমে এসব বালু ও মাটি অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত ১০ মে বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে তিনি ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও স্থানীয় অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযুক্ত সুলতানের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

