কুড়িগ্রামে আমন ধানের ক্ষেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেতে এ পোকার বিস্তার বাড়তে থাকায় ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত জমিতে বালাইনাশক স্প্রে করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
কৃষকদের অভিযোগ, আগের বছরগুলোতে আমন ধানে এ পোকার তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। তবে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জমিতে পোকার উপস্থিতি বেড়েছে। এতে সম্ভাব্য লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেক কৃষক।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হয়েছে। এর নিচে রয়েছে ছোট ছোট পোকা। আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যাচ্ছে এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে পুড়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে।
জেলার উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক মো. আকবর আলী বলেন, “এ মৌসুমে এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান লাগাইছি। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ছাতরা পোকা আক্রমণ করেছে। এবার তো পুরো লস হলো।”
রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার এলাকার কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকার বলেন, তাঁর প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। অনেক ওষুধ দিয়েও কাজ হয়নি। পরে আক্রান্ত ধানগাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন।
স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা মো. কাইয়ুম সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে আমন ধানক্ষেতে এ ধরনের পোকার আক্রমণ আগে দেখেননি। গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও তেমন ক্ষতি হয়নি। এবার বিভিন্ন জমিতে পোকার উপস্থিতি বেড়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ছাতরা পোকা কোনো রোগ নয়; এটি গাছের রস শোষণকারী ক্ষতিকর পোকা। এর আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা হলদে হয়ে যায় এবং তীব্র আক্রমণে গাছ শুকিয়ে যেতে পারে। আগের বছরগুলোতে কুড়িগ্রামের আমন ধানক্ষেতে এ পোকার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষিতে এর প্রভাব পড়ছে। এতে ফসলে নানা ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে এবং কৃষি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে জমিতে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। এ পোকা দমনে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও চলছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে বালাইনাশক প্রয়োগ করলে এ পোকা দমন করা সম্ভব।