বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

দীপাবলির আগে মাটির প্রদীপ তৈরিতে ব্যস্ত ফুলবাড়ীর মৃৎশিল্পীরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

কয়েক দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা বা কালীপূজা এবং আলোর উৎসব দীপাবলি। এ উৎসবকে সামনে রেখে মাটির প্রদীপ (দিয়ারি) তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মাঝিপাড়া কুমারপল্লির মৃৎশিল্পীরা। চাহিদা পূরণে দিনরাত কাজ করছেন তাঁরা। পরিবারের নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরাও এ কাজে সহযোগিতা করছে। কারও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

মাঝিপাড়া কুমারপল্লির মৃৎশিল্পীরা বংশপরম্পরায় মাটির বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হাঁড়িপাতিল, পুতুলসহ দৈনন্দিন ব্যবহার ও মেলার চাহিদা অনুযায়ী নানা পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। তবে কালীপূজা ও দীপাবলি সামনে রেখে এখন তাঁদের প্রধান ব্যস্ততা মাটির প্রদীপ তৈরি। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এসব প্রদীপ আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয়।

মৃৎশিল্পী বিষ্ণু চন্দ্র পাল ও তাঁর স্ত্রী টুম্পা রানী পাল জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কালীপূজা ও দীপাবলির আগে মাটির প্রদীপের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। এ সময় প্রদীপ বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নেমেছেন তাঁরা। এবার ২০ হাজার মাটির প্রদীপ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সব প্রদীপ তৈরি শেষ হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

আনন্দ কুমার পাল ও বেরেন চন্দ্র পাল জানান, স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০০টি প্রদীপ ৫০ টাকা দরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁরা ১০ হাজার প্রদীপ বিক্রি করবেন। তাঁদের ভাষ্য, আগের তুলনায় মাটির দাম বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণের খরচও। কিন্তু সে অনুযায়ী প্রদীপের দাম বাড়েনি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় জানান, আগামী ৮ নভেম্বর (রোববার) অমাবস্যা তিথিতে মহাশক্তিরূপিণী, দুর্গতিনাশিনী শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হবে।

তাঁরা বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উপলক্ষে কুমারপল্লিগুলোতে মাটির প্রদীপের চাহিদা বেড়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজামণ্ডপের পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘরও ঐতিহ্যবাহী মাটির প্রদীপের আলোয় আলোকিত করবেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর