শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন’—ছাত্রদল নেতার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সার ডিলারশিপ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রায়হান ফেরদৌস সজীব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন—ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক।’ পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সজীবের দাবি, রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে সার ডিলারশিপের জন্য করা সুপারিশের তালিকায় তাঁর নাম দ্বিতীয় স্থানে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মো. মোস্তফা জামাল ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে তিনি ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানান।

সজীব রায়হান ট্রেডার্সের মালিক। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পরও তিনি ডিলারশিপ পাননি। অন্যদিকে, ডিলারশিপ পাওয়া মোস্তফা জামাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তফা জামাল। তাঁর ভাষ্য, তিনি কিংবা তাঁর পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

ডিলারশিপের ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রসঙ্গে মোস্তফা জামাল বলেন, হারুন উর রশীদ তাঁর পক্ষে কিছুটা যোগাযোগ করেছিলেন। তবে ডিলারশিপ তাঁর নিজের নামে এবং ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি নিয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতের অভিজ্ঞতার কথা সজীবের

রায়হান ফেরদৌস সজীবের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৩ সালে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ এবং ২০২১ সাল থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জিয়া মঞ্চের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন বলে জানান তিনি।

সজীব আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরের সামনে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন বলেও দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন জানিয়ে সজীব বলেন, রংপুর ও ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০২০ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তবে করোনা মহামারির কারণে সে সময় যেতে পারেননি। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সজীবের বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। নিজেকে জুলাই আন্দোলনের একজন যোদ্ধা দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেও ডিলারশিপ না পাওয়ায় তিনি হতাশ।

ডিলারশিপ পরিচালনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ডিলারশিপ মোস্তফা জামালের নামে থাকলেও ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন উর রশীদ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন উর রশীদ।

তিনি বলেন, ডিলারশিপের সব কাগজপত্র মোস্তফা জামালের নামে রয়েছে এবং ডিলারশিপও তিনিই পেয়েছেন।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। তিনি সার ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটির সদস্য উল্লেখ করে জানান, কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে যাঁকে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাঁকেই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ছাড়া কোনো পক্ষের দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর