নাসিরনগরে ওলামা দলের ভুয়া কমিটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক, বৈধ কমিটি ঘোষণা জেলা ও কেন্দ্রের

0
163
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর অঙ্গসংগঠন ওলামা দল / ছবি - রাজনৈতিক লোগো

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর অঙ্গসংগঠন ওলামা দলের নাসিরনগর উপজেলা শাখার নামে ভুয়া কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তীব্র সাংগঠনিক অস্থিরতা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই ভুয়া কমিটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ওলামা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এবং নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. হান্নান ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরীর উপস্থিতি ও সুপারিশে নাসিরনগর উপজেলা ওলামা দলের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে মাওলানা মোহাম্মদ মাজহারুল করিমকে সভাপতি ও মাওলানা মাহমুদ উল্লাহ আশরাফীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। কমিটিটি জেলা ও কেন্দ্রের নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত এবং আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের স্বাক্ষরিত বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

কমিটি ঘোষণার পর থেকে তারা নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।

তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাওলানা আল আমিন ও মাওলানা শরিফ স্বাক্ষরিত একটি তথাকথিত আহ্বায়ক কমিটি ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর মাওলানা আল আমিন একাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় অনুমোদনহীন কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক কর্তৃত্ব জাহিরের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন।

এছাড়া জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় এবং চাঁদা না দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির অভিযোগও ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে মাওলানা আল আমিনকে অব্যাহতি প্রদান করে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা ইসহাককে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হলে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওলামা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির প্যাডে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা ওবাইদুল্লাহ স্বাক্ষর করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩১/০৫/২০২৫ তারিখে ঘোষিত ৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিই একমাত্র বৈধ ও অনুমোদিত কমিটি, যেখানে মাওলানা মাজহারুল করিম সভাপতি এবং মাওলানা মাহমুদ উল্লাহ আশরাফী সাধারণ সম্পাদক। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথাকথিত আহ্বায়ক কমিটিকে ভুয়া, ভিত্তিহীন ও সাংগঠনিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, জেলা আহ্বায়ক কমিটির প্রায় সকল যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য ইতোমধ্যে মাওলানা আল আমিনের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছেন। এরপরও তিনি বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া কমিটি গঠন করে সংগঠনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় নেতৃবৃন্দ নাসিরনগর উপজেলা ওলামা দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে কেন্দ্র ও জেলা অনুমোদিত বৈধ কমিটির নেতৃত্বে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভুয়া কমিটির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তারা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here