কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের কাজজীপাড়া এলাকায় বুড়ি তিস্তা খালের ওপরের সেতু ভেঙে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত একটি ছোট কাঠের সাঁকোই এখন প্রায় ২০ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। এতে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে বুড়ি তিস্তা খালের ওপরের সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে সেতুটি নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে খালের ওপর একটি ছোট কাঠের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
বর্তমানে কাজজীপাড়া, আমভন্দ্রপাড়া, চাকরি, ঘুঘুরাম, পান্ডলসহ আশপাশের প্রায় সাতটি গ্রামের মানুষ এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। বর্ষাকালে খালের পানি বাড়লে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য অসতর্ক হলেই সাঁকো থেকে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল রহমান বলেন, “সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাঠের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পারাপার করতে খুব ভয় লাগে।”
আমভন্দ্রপাড়া এলাকার মো. আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, সেতুটি চালু থাকাকালে আশপাশের মানুষ সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারতেন। এখন সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. হিরা মিয়া, মোছা. হাফিজা ও মো. জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতের সময় তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টির সময় কাঠের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কাজজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হয়। সবসময় চিন্তায় থাকি, কখন কোনো শিশু দুর্ঘটনার শিকার হয়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকদেরও অনেক কষ্ট করে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। বৃষ্টির দিনে অনেক সময় পায়ে হেঁটে আসতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কাঠের সাঁকো দিয়ে বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বড় গাড়ি নিয়ে কাজজীপাড়া যেতে হলে প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।
পান্ডুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন মালদার বলেন, “কাঠের সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন সেতুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।”
উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ফিজানুর রহমান বলেন, “কাজজীপাড়ার সেতুটির বিষয়টি আমরা জানি। আমাদের ৫০ ফুট পর্যন্ত সেতুর বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০ ফুট সেতু প্রয়োজন। ৭০ ফুট সেতুর বরাদ্দ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত বুড়ি তিস্তা খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে সাতটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে।
এই বাংলা/এমএস