শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে পাউবোর সামনে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেখলী এলাকায় ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ও অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভাঙনে মেখলীসহ আশপাশের এলাকায় শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অসংখ্য বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙন অব্যাহত থাকায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এলাকার ভূখণ্ড ও মানুষের বসবাসের জায়গা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ধরলা নদীর ভাঙন রোধে এর আগে একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে মানুষ বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

তারা আরও বলেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে মেখলী এলাকার বড় একটি অংশ একসময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শুধু সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, নদীর গতিপথ ও ভাঙনপ্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এম রশিদ আলী, অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি মোছা. আরজু খাতুন, ডোনেট ফর ভুরুঙ্গামারীর সদস্য মোছা. চামেলী খাতুন এবং ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত মেখলী এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর