ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটা, ফল চুরি এবং বসতভিটার মাটি কেটে জমির আকার পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসা. লিলি বেগম কাঁঠালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সাদ্দাম হাওলাদার (২৮)। তিনি উপজেলার পূর্ব ছিটকী এলাকার মৃত আকুব আলী হাওলাদারের ছেলে। জিডিতে সাদ্দাম হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
জিডি সূত্রে জানা যায়, লিলি বেগম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী সাদ্দাম হাওলাদারের পৈতৃক ও সাব-কবলা দলিলমূলে কেনা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে বিবাদীরা তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে বলা হয়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাদ্দাম হাওলাদার লোকজন ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লিলি বেগমের পরিবারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা জমিতে থাকা তিনটি মেহগনি গাছ, একটি নারিকেল গাছ ও প্রায় ৮০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলেন। এসব গাছের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৯ হাজার, ১০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া দুটি সুপারি বাগান থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সুপারি, যার মূল্য আনুমানিক ২৫ হাজার টাকা, এবং নারিকেল গাছ থেকে ২০০টি শুকনো নারিকেল ও ৩০০টি ডাব পেড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রয়কৃত জমির মাটি কেটে এর স্বাভাবিক আকার পরিবর্তন করা হয় বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিলি বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁকে মারধরের জন্য তেড়ে আসেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তাঁরা তাঁকে খুন-জখমের হুমকি দেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস