বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগেশ্বরীতে তিন নদীর ভয়াবহ ভাঙন: দেড় মাসে বিলীন ৩০০ ঘরবাড়ি

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
[12:50 PM, 11/24/2025] +880 1833-677767: কুড়িগ্রামে ৫২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:- সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং ১২:০১ পিএম. কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা পুলিশ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গাবতলা বাজার এলাকা থেকে ৫২ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। রোববার রাতের এই অভিযানে থানার অফিসার ও সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেন। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩৫)। তিনি কচাকাটা থানা মাদারগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পিতা মোঃ মকবুল হোসেন। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাবতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলে আরিফুল ইসলামকে সন্দেহভাজন অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগ… [1:05 PM, 11/24/2025] +880 1833-677767: কুড়িগ্রামে দুধকুমারে ভাঙনে ঘরহারা তিন শতাধিক পরিবার / ছবি - এই বাংলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নদীভাঙন এখন মানুষের সবচেয়ে বড় আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত দেড় মাসে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদী ভেঙে দিয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি, মসজিদ, হাট-বাজার ও ফসলের জমি। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকায় ফাটল ধরছে, নদীতে মিশে যাচ্ছে মানুষের বসতভিটা। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পথে বসছে অসংখ্য পরিবার।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের তীরে নারায়ণপুর ইউনিয়নের কন্যামতি, মণ্ডলপাড়া, পদ্মারচর, বালারহাটসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে নিজের শেষ সম্বল রক্ষায়। গত দেড় মাসে মসজিদ, মাদ্রাসা, গ্রামীণ বাজারসহ দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে আরও বহু স্থাপনা।

ভাঙনে সব হারানো আয়নাল হক ও সুরমান আলী ক্ষোভ ও হতাশায় বলেন, ‘গাঙ্গ আমাগো সব খাইয়া ফেলল। বউ-বাচ্চা লইয়া এখন কোথায় যামু? কী খাইয়া বাঁচমু?’

দুধকুমার নদীর পাড়ে কুটিরচর, মুড়িয়া, আদর্শ বাজার, তেলিয়ানি, খেলারভিটায় একই চিত্র— কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে ভরা গ্রাম। শুধু কুটিরচরেই গত এক মাসে ভিটেমাটি হারিয়েছে ২৬টি পরিবার। সব মিলিয়ে দুধকুমার পাড়ের বিভিন্ন ইউনিয়নে ভেঙেছে শতাধিক ঘরবাড়ি। নদীতে বিলীন হয়েছে ১৩ বিঘা কলাবাগান, নষ্ট হয়েছে ৭০ বিঘা ডালক্ষেত।

হুমকির মুখে রয়েছে— দক্ষিণপাড়া মসজিদ, মুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দামালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়বাড়ি সিনিয়র মাদ্রাসা, চরলুচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গঙ্গাধর নদীতেও একই অবস্থা। গত এক মাসে কচাকাটা ইউনিয়নের ধনিরামপুর, বালারহাট ও মাঝিপাড়ার প্রায় ৫০টি বাড়ি নদীতে মিশে গেছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “মানুষ প্রতিদিন সাহায্যের জন্য আসে। কিন্তু আমাদের হাতে কিছুই নেই।”

এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কাজ চলছে, তবে বাজেট স্বল্পতার কারণে সব জায়গায় তাৎক্ষণিক কাজ করা সম্ভব নয়। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।”

নাগেশ্বরীর মানুষের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন— কবে থামবে ভাঙন? কবে মিলবে মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই?

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গভীর নিম্নচাপটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত