উলিপুরে ৯ বছর ধরে ভাঙা সেতু, চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
এইবাংলা অনলাইন
প্রকাশকালঃ
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে একটি ভাঙা সেতুর কারণে প্রায় ৯ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জানা যায়, উলিপুর হাসপাতাল মোড় থেকে তবকপুর ইউনিয়নের বড়ুয়া তবকপুর বাজারগামী পাকা সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর পিলার ধসে পড়ার পর থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতাল মোড় থেকে বড়ুয়া তবকপুর হয়ে রসুলপুর চুনিয়ারপার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন সেতু নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বর্তমানে যাতায়াতের জন্য মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ড্রামের ভেলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। কেউ আবার কৃষিজমির আইল ধরে হেঁটে চলাচল করছেন। এতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মাহিন, রিপন ও সোহাগ জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের ড্রামের ভেলা পার হতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ভয়ের কারণে স্কুলেও যেতে পারে না তারা।
বড়ুয়া তবকপুর এলাকার বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, “সেতুটি বহু বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। কেউ আমাদের সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছে না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিন মিয়া বলেন, “মালামাল পরিবহনে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আসতে পারে না। বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে যেতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া, আতিকুর রহমান ও আব্দুল আজিজসহ অনেকে জানান, নতুন সেতুর দাবিতে বহুবার আবেদন, মানববন্ধন ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, “সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো রয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। দীর্ঘ নয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ শাহজাহান খান,
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক ১২, পুরানা পল্টন (এল মল্লিক কমপ্লেক্স, ৫ম তলা) ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত ও আর এস প্রিন্টিং প্রেস ৯২, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।