শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন

নাটোরের গুরুদাসপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার মৃত রেজাউল করিমের ছেলে সবুজ প্রাং (২৯), মৃত নাছের আলীর ছেলে জাহের আলী (৫০) ও হাসান আলী (৫৭)। এছাড়া শ্যামপুর স্কুলপাড়া এলাকা থেকে মো. আব্দুল আজিজের ছেলে রবিউল করিম (৪০) এবং শ্যামপুর বড়ঘাট বাজার এলাকা থেকে মো. শামীম রেজার ছেলে আশিক আহম্মেদ (২২), জহুরুল ইসলামের ছেলে নাঈম আলী (১৯), আব্দুল রহিমের ছেলে রেজাউল করিম (২৮), আব্দুস সালামের ছেলে আল আমিন (২৭) ও কালাম হোসেনের ছেলে কামরুল ইসলাম (২১)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি জানান, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে ফারহান ইসলাম ও লাম ইসলাম নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার ও কনস্টেবল আব্দুর রাকিব ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে তারা মরদেহ দুটি দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাদের লাঠি দিয়ে আঘাত ও কিল-ঘুষি মারা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার এসআই এমদাদুল হক বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার দুপুর ২টার দিকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অভিযানের নামে কোনো সাধারণ বা নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর