শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে মাদক ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান, ছাত্রদল নেতাসহ ১৯ জন গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে রামখানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মতিয়ার রহমান বাবুসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৯ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাগেশ্বরী থানা এলাকায় ক্যাসিনো জুয়া ও মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. এরশাদুল মিয়া (৩৮), মো. রবিউল ইসলাম (৩৭), মো. আতাউর জামান (২৭), মো. সুজন রানা (২৮), মো. এরশাদুল হক (২৮), মো. জাঙ্গীর আলম (৩৯), মো. লাবু মিয়া (২৮) ও মো. আব্বাস আলী (৩১)-কে তিন দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যের একাংশে তিন দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় আটজনের নাম পাওয়া গেছে, যদিও সেখানে মোট কারাদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা নয়জন উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নবম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও সাজার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে আরও যাচাই প্রয়োজন।

এ ছাড়া মো. রাশেদুল ইসলাম (৩০), মো. আবু সাঈদ (২৮), মো. আশরাফুল আলম (২৯), মো. লেবু ইসলাম লিমন (২০), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮), মো. মতিয়ার রহমান বাবু (৩০), মো. তারেক আজিজ (২৭), মো. রাসেল (২৫) ও মো. আরাফাত হোসেন (২১)-কে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. মতিয়ার রহমান বাবু (৩০) কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

তবে মতিয়ার রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে মো. মতিয়ার রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ও আদালতের নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর