ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১১ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. হাসান মোল্লা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মো. আলম সেক (৩০) নামে আরও একজন পালিয়ে যান। পুলিশের দায়ের করা এজাহারে বলা হয়েছে, পলাতক আলম সেকের বিরুদ্ধে ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে উপজেলার বিএস ডাঙ্গী এলাকার ব্র্যাক অফিসের সামনে পাকা সড়ক থেকে হাসান মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাসান মোল্লা উপজেলার আব্দুল সিকদারের ডাঙ্গী এলাকার বারেক মোল্লার ছেলে। পলাতক আলম সেক একই উপজেলার কে এম ডাঙ্গী এলাকার কাইমুদ্দিন সেকের ছেলে।
চরভদ্রাসন থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে ছিল পুলিশের একটি দল। রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে বিএস ডাঙ্গী এলাকার স্বাধীনতা চত্বর ব্রিজের ওপর অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, ব্র্যাক অফিসের সামনের সড়কে কয়েকজন মাদক কারবারি বিক্রির উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ে অবস্থান করছেন।
পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসান মোল্লা ও তাঁর সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ হাসান মোল্লাকে আটক করতে সক্ষম হলেও আলম সেক পালিয়ে যান।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান মোল্লার পরিহিত হাফহাতা গেঞ্জির বুকপকেটে থাকা নীল রঙের একটি জিপারযুক্ত প্যাকেট থেকে হালকা কমলা রঙের ১১ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটের ওজন ১ গ্রাম এবং আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ৩ হাজার ৩০০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বৈদ্যুতিক বাতি ও টর্চের আলোতে উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো জব্দ করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, হাসান মোল্লা ও আলম সেক পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চরভদ্রাসন থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এ ছাড়া সিডিএমএস যাচাই করে আলম সেকের বিরুদ্ধে ২০১৬, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই মামলাগুলোর বিচারিক অগ্রগতি বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়ে এজাহারে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় অভিযোগ এনে নিয়মিত মামলা রুজুর আবেদন করেছেন চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক খান।
সূত্র: চরভদ্রাসন থানায় দায়ের করা এজাহার।
এই বাংলা/এমএস