সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সাংবাদিকের বৃদ্ধ মা–বাবার ওপর হামলা ও গাছ কাটার অভিযোগ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের কাছাইট গ্রামে সাংবাদিক ইয়াসিন মাহমুদ–এর বৃদ্ধ মা–বাবার ওপর হামলা, ঘর ভাঙচুর এবং ফলন্ত গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয়দের মতে, মৃত আবুল হোসেন কেবলের বড় ছেলে মানিক ও তার চার বোন—পারভীন, মঞ্জু, জনি ও রনি—মিলে ৮ থেকে ১০টি ফলন্ত গাছ কেটে ফেলেছে। সরজমিনে গিয়ে সাংবাদিকরা কাটা গাছের স্তূপ দেখতে পান এবং পরিবারের প্রতি প্রকাশ্য হুমকিরও প্রমাণ মেলে।

সাংবাদিক ইয়াসিন মাহমুদের বাবা জানু মিয়া বলেন, “বাড়িতে ছেলে–মেয়ে না থাকায় আমি ও আমার বৃদ্ধ স্ত্রী একাই থাকি। সকালবেলা কেবলের মেয়েরা এসে আমাদের ফলন্ত সব গাছ একে একে কেটে ফেলে। দক্ষিণ পাশে থাকা ঘরটিতে ইটপাটকেল ছুড়ে দেয়, ঘরের বড় অংশ ভেঙে যায়। তারা দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিচ্ছে—কথা বললে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে দেবে। আমি বৃদ্ধ মানুষ, ঝামেলা পছন্দ করি না, তাই চুপ থাকি।”

ইয়াসিন মাহমুদ বলেন, “আমার বাবা গ্রামে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাকে শহরে নিতে পারি না, শহরে এলেই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সুযোগে আমার মা–বাবার সঙ্গে তারা নিয়মিত দুর্ব্যবহার করে। এমনকি সাংবাদিকদের সামনেই আমাকে মানহানি ও নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে। যেকোনো সময় আমার বাবা–মাকে মিথ্যা মামলায় জড়াতে পারে—এই ভয়েই তারা দিন কাটাচ্ছেন।”

সরজমিনে থাকা সাংবাদিকরাও বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অবস্থাতেই ইয়াসিন মাহমুদের পরিবারের ওপর একাধিকবার চড়াও হওয়ার ঘটনা তারা প্রত্যক্ষ করেছেন।

অভিযুক্ত মঞ্জু বেগম জানান, “আমাদের বাড়িতে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। রাস্তার জায়গায় থাকা গাছগুলো তাদের অনুমতি নিয়ে কেটে ফেলেছি। এ বিষয়ে সর্দারদের মাধ্যমে সালিশও হয়েছে।”

তবে সাংবাদিক ইয়াসিন মাহমুদ ও তার পরিবারের সদস্যরা এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন— “গাছ কাটার আগে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। সালিশের কথাটিও ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সাংবাদিক ইয়াসিন মাহমুদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেবল পরিবারের সদস্যদের দ্বন্দ্ব চলছে। অভিযোগ রয়েছে, কেবল পরিবারের পক্ষ থেকেই নানা সময়ে জুলুম–নির্যাতন করা হয়।

গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় গ্রামবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। একই সঙ্গে গাছ কাটা, ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর