বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৫ নম্বর বুড়ামজুদার ইউনিয়নে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) না থাকায় বিয়ে ও নিকাহ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ সুযোগে মো. মিজানুর রহমান ও মো. জলিলুর রহমান নামে দুই ব্যক্তি কাজী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিয়ে পড়ানো ও নিকাহ রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নটিতে সরকারি অনুমোদিত নিকাহ রেজিস্ট্রার না থাকায় বিয়ে ও নিকাহ রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। এ সময় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি প্রথমে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরে মো. জলিলুর রহমান ওই নিয়োগের বিষয়ে মামলা করেন। তাঁর নিয়োগ বাতিল হয়েছে—এমন কোনো আদেশ তিনি পাননি বলেও দাবি করেন মিজানুর রহমান।
অন্যদিকে মো. জলিলুর রহমান বলেন, তিনি আগে নিয়োগ পেলেও টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তির নাম দ্বিতীয় অবস্থানে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেন এবং পরবর্তীতে নিয়োগ স্থগিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বেতাগী উপজেলা কাজী কমিটির সভাপতি মো. সোহরাব হোসেন কাজী বলেন, ৫ নম্বর বুড়ামজুদার ইউনিয়নে বর্তমানে সরকারের নিয়োগ দেওয়া কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার নেই। প্রথমে মো. মিজানুর রহমান কাজী হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরে মো. জলিলুর রহমান নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মামলা করায় হাইকোর্ট নিয়োগটি স্থগিত রাখেন।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। হাইকোর্ট যে রায় দেবেন, তা আমলে নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি নিকাহ রেজিস্ট্রার না থাকায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিয়ে ও নিকাহ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত একজন বৈধ ও সরকারি অনুমোদিত নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এই বাংলা/এমএস