বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০ বছর ধরে ‘চিকিৎসক’ পরিচয়ে রোগী দেখছেন, নেই এমবিবিএস বা নিবন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ইটনা সদরে কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি, চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন কিংবা প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়াই প্রায় ২০ বছর ধরে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে মো. আবুল কাশেম নামে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটনা সদরে নিজস্ব চেম্বার খুলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু থেকে বৃদ্ধ—বিভিন্ন বয়সী রোগী দেখেন তিনি। রোগীপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভিজিট নিয়ে ওষুধের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই চেম্বারে গিয়ে রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। রোগীদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আবুল কাশেম সাদা কাগজে ওষুধের নাম লিখে দিচ্ছেন। ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের সিল বা স্বাক্ষরও নেই। নাক-কান-গলা ও চোখের বিভিন্ন সমস্যায়ও তিনি রোগী দেখছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল কাশেম একসময় ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, চাকরির সময় থেকেই তিনি ওই চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা অব্যাহত রেখেছেন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, তার কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর কারও কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ ও কমিশন লেনদেনের মাধ্যমে তিনি রোগী দেখার সুযোগ পাচ্ছেন—এমন অভিযোগও স্থানীয়দের কেউ কেউ করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আবুল কাশেম বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে এভাবে চিকিৎসা দিয়ে আসছি। আমি ইন্টার পাস। আমার কোনো সনদ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ওষুধ লেখার ক্ষমতা রাখি না। আমি যে কাজটি করছি, সেটি আইনত অপরাধ।”

রোগীদের সরকারি হাসপাতালে রেফার করার বিষয়ে তিনি জানান, তিনি মৌখিকভাবে পরামর্শ দিলে সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি নেওয়া হয়।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতিশ দাস রাজীব বলেন, আবুল কাশেম দীর্ঘদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ইটনায় চিকিৎসক সংকট থাকায় রোগীরা তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকরির অভিজ্ঞতা চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখা কিংবা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার বৈধ অনুমতি দেয় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে জেলার ইটনায় একজন সনদবিহীন ডাক্তারের সন্ধান পেয়েছি। তিনি ডাক্তার না হয়ে রোগী দেখছেন অথবা প্রেসক্রিপশন লিখছেন—এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় দুই দশক ধরে একজন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যোগ্যতা ও নিবন্ধন ছাড়াই প্রকাশ্যে রোগী দেখে আসার বিষয়টি এতদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এল না কেন?

সচেতন মহলের মতে, চিকিৎসা একটি সংবেদনশীল পেশা। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসা দিলে রোগীর স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়