বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘পাহাড়ে কাজের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে’: বিদায়ী সংবর্ধনায় এসিল্যান্ড ফজলে রাব্ব

বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বির বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান।

উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিপন চাকমার সঞ্চালনায় বিদায়ী বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি বাঘাইছড়িতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই আমি বাঘাইছড়ি উপজেলায় এসেছিলাম। এখানে দায়িত্ব পালনকালে অনেক কিছু শেখার এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বলেন, ‘দেশকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই ফজলে রাব্বির মধ্যে রয়েছে। বাঘাইছড়িতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়িতে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফজলে রাব্বির মতো দক্ষ একজন কর্মকর্তা এখানে আরও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারলে বাঘাইছড়ির জন্য আরও অনেক কিছু করতে পারতেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দীন বাবু, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়াস চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর আলম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বিকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

এ সময় বক্তারা দায়িত্ব পালনে তাঁর আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়