বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২০ জনের নামসহ ২০০–২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর পর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ৮-৯ বছর বয়সী দুই শিশু লাম ও ফারহান পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে অপমৃত্যু মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব ঘটনাস্থলে যান। পরে নিহত লামের বাড়িতে তাঁর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন তাঁরা।

এরপর নিহত ফারহানের মরদেহ চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে ফারহানের মরদেহেরও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে লামের মরদেহও ওই মাঠে নেওয়া হলে দুই শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এজাহারে বলা হয়, জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ অভিভাবকদের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর এবং বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে অবহিত করার প্রস্তাব দেন এসআই আবুল বাশার। এতে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ সদস্যরা দোকান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এক ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে এসআই আবুল বাশারের মাথায় আঘাত করেন। পরে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরে তাঁরা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও যাওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে। পরে আহত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দুই শিশুর জানাজার সময় পুলিশ সদস্যরা কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি ও পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার হন।

ঘটনার পর এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবকে গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার বাদী এসআই এমদাদুল হক বলেন, “বুধবার রাতে ডিউটি শেষে থানায় ফিরে এজাহার জমা দিয়েছি।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়