বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে পাউবোর সামনে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেখলী এলাকায় ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ও অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রাম।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভাঙনে মেখলীসহ আশপাশের এলাকায় শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অসংখ্য বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভাঙন অব্যাহত থাকায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এলাকার ভূখণ্ড ও মানুষের বসবাসের জায়গা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ধরলা নদীর ভাঙন রোধে এর আগে একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে মানুষ বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

তারা আরও বলেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে মেখলী এলাকার বড় একটি অংশ একসময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শুধু সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, নদীর গতিপথ ও ভাঙনপ্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এম রশিদ আলী, অ্যাক্টিভিস্টা কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি মোছা. আরজু খাতুন, ডোনেট ফর ভুরুঙ্গামারীর সদস্য মোছা. চামেলী খাতুন এবং ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস আলীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত মেখলী এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়