মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেতাগীতে বর্ষায় কাদা-পানিতে বন্দি শতাধিক পরিবার, দুর্ভোগে ভামনের করুনা গ্রামের মানুষ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৫ নম্বর বুড়ামজুদার ইউনিয়নের ভামনের করুনা গ্রামের কাঁচা সড়কগুলো বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়দের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রামের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভামনের করুনা গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তাই এখনো কাঁচা। বর্ষা শুরু হলে এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা-পানি পেরিয়ে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।

তারা জানান, বর্ষাকালে জরুরি প্রয়োজনে কোনো যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অসুস্থ কাউকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাতায়াতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

স্থানীয়দের দাবি, ভামনের করুনা গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়