বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে জুলাই দিবসে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, তিন দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় জুলাই দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এজাহার দেওয়া হলেও তিন দিনেও মামলা নথিভুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিষয় থাকায় মামলা নথিভুক্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক।

হামলার শিকার সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবাইর স্টার টিভির কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। গত ৮ আগস্ট তাঁর পক্ষে উলিপুর থানায় এজাহার দাখিল করেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম। এজাহারে উপজেলা বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান বাচ্চু, যুবদল কর্মী রফিক হাসান, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান মারুফসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ১৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার দাখিলের তিন দিন পরও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক জুবাইর। তিনি বলেন, হামলার পর তিনি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পর হামলাকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুবাইরের অভিযোগ, জুলাই দিবসের অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহের সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে অডিটরিয়াম থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যান। তাঁর ভাষ্য, তখন অডিটরিয়ামের ভেতরে ওসির বক্তব্য চলছিল এবং তিনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় শামীম নামে এক বিএনপি কর্মী তাঁকে টেনে বাইরে নিয়ে যান। পরে মোটরসাইকেলে উঠতে বলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং ‘উল্টাপাল্টা নিউজ করিস’ বলে হুমকি দেওয়া হয়।

মামলা নথিভুক্ত না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “রাজনৈতিক কিছু ইস্যু রয়েছে। তাই মামলা এখনও নথিভুক্ত করা হয়নি। আমরা যাচাই-বাছাই করছি।”

কী বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে ওসি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। এর আগে ঘটনার দিন তিনি জানিয়েছিলেন, আহত সাংবাদিক সুস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা উলিপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হায়দার আলী বলেন, তাঁরা সবাই অডিটরিয়ামে ছিলেন। হঠাৎ হট্টগোলের খবর পেয়ে ওসিসহ বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মামলা নথিভুক্তে বিলম্বের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলা ট্রিবিউন ও আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান। তাঁর ভাষ্য, থানায় এজাহার দাখিলের পর তা নথিভুক্ত করে তদন্ত করা এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। এজাহার নথিভুক্তে দীর্ঘসূত্রতা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রধান শিক্ষক মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ২৬ নম্বর কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান শেষে মো. মোছাদ্দেকুর রহমানকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। গাড়িতে ওঠার সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো এবং ফুলের মালা পরিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক।

বিদায়কালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মো. মোছাদ্দেকুর রহমান বলেন, “আমি বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু দোয়া রেখে গেলাম। তোমরা নিজেদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বলেন, বিদায় সবসময়ই কষ্টের। তবে একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা এমন আয়োজন করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকের দীর্ঘদিনের সম্পর্কও প্রতিফলিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, একজন শিক্ষক চাকরিজীবন শেষে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট অনুভব করেন। মোছাদ্দেকুর রহমানের মতো প্রতিটি শিক্ষকের বিদায়ই স্মরণীয় হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইন্সট্রাক্টর এ কে এম সারোয়ার জাহান আহমেদি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফজলার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমিন এবং পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এই বাংলা/এমএস

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়