মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

তাড়াশে জমির দলিল জালিয়াতির মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় মিজানুর রহমান (৫০) নামে এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের হেমনগড় গ্রামের মৃত মেহের উদ্দিনের ছেলে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ থানার কাটাবাড়ী মৌজার আরএস ১১৪৩ নম্বর খতিয়ানের ১২৭৯ নম্বর দাগে ৮৯ শতাংশ, ১৪০২ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ এবং ৫২৫১ নম্বর দাগে ২০ শতাংশ জমি ছিল। সব মিলিয়ে ১২৪ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন ১ ও ২ নম্বর বিবাদীর বাবা মৃত মেহের উদ্দিন। একই মৌজার আরএস ১২৮৭ নম্বর খতিয়ানের ১৪০২ নম্বর দাগে ১৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন বিবাদীদের মা সুফিয়া খাতুন গং।

মেহের উদ্দিন ও সুফিয়া খাতুন জীবিত থাকা অবস্থায় এবং তাঁদের উত্তরাধিকারীরা জমি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় ১ ও ২ নম্বর বিবাদী ওই সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা দেন। পরে ভুক্তভোগীর চাচা, যিনি বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী, উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করে ২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি তাড়াশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৮৩ নম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমিগুলো কেনেন। এরপর তিনি বৈধভাবে নামজারি সম্পন্ন করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধের পাশাপাশি বাদীর মাধ্যমে জমিতে ফসল উৎপাদন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ গ্রামের জহুরুল ইসলাম জুয়েলের ছেলে শাহরিয়ার জয় জুয়েলের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমিটি বিবাদীদের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় মিজানুর রহমানসহ অন্য বিবাদীরা অবৈধভাবে তা দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে তাঁরা ৫৫৭ নম্বর দলিলের বিষয়ে প্রথমে ১৯৮৬ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে একটি কথিত দলিল উপস্থাপন করেন। তবে ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় পরে তাঁরা তারিখ পরিবর্তন করে ১৭-এর স্থলে ২৭ উল্লেখ করেন এবং কথিত দলিলটির ফটোকপি পিবিআইয়ের কাছে জমা দেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে ওই দলিলের টিপসইয়ের সিরিয়াল নম্বরেও অমিল পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কথিত ফটোকপি দলিলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া মৌজার ৮৫০ নম্বর দাগের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ওই মৌজায় এমন কোনো দাগের অস্তিত্ব নেই বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। এ ছাড়া দলিলের নিবন্ধনের তারিখের পর স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অসংগতির ভিত্তিতে দলিলটিকে জাল বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী।

ওই দলিলের ফটোকপি ব্যবহার করে বিবাদীরা সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমআর-৮২ নম্বর মামলা করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কথিত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করে তাঁরা পরিবারটিকে হয়রানি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

পরবর্তী সময়ে দলিল জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মোজাম্মেলকে (৫০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার ২ নম্বর আসামি মো. ইমরান হোসেন আপেল (৪১) পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানার এএসআই উত্তম কুমার বলেন, “অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর