নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান আজিজের ছেলে মিন্টুকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে মিন্টুকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ছাত্রদল নেতা শাকিলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাঁর হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাকিল ইসলাম। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শাকিল। পথে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের পাশে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো ও গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সাবেক পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার খামার নাচকৈড় খোয়ারপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এই বাংলা/এমএস