কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবাহী ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন কলেজশিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম। একই ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়েছেন পল্লিচিকিৎসক কামরুজ্জামান বাদলও।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙি বাজারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রৌমারী উপজেলার শোলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের কলেজশিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি, ছেলে রিশাদ (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন লিপির বোন শরিফা খাতুন, যিনি যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী গ্রামের পল্লিচিকিৎসক কামরুজ্জামান বাদলের স্ত্রী, এবং অটোরিকশার চালক। চালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় শরিফার মেয়ে কামরুন্নাহার বৃষ্টি (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শরিফার দেবর বকুল মন্ডল জানান, তিন-চার দিন আগে শরিফা ও লিপি তাঁদের সন্তানদের নিয়ে ময়মনসিংহে ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে মা থাকেন। শনিবার তাঁরা ময়মনসিংহ থেকে রৌমারীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে রাজিবপুরের বটতলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাঁরা।
বকুল মন্ডলের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি শিবেরডাঙি বাজারের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবাহী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই লিপি, শরিফা ও অটোরিকশাচালক নিহত হন। গুরুতর আহত বৃষ্টি, রিশাদ ও তুবাকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিশাদ ও তুবাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বৃষ্টিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়।
স্বজনদের হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। বকুল মন্ডল বলেন, “দুর্ঘটনার পর স্বজনদের হারিয়ে কেউ কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। সবাই শোকে কাতর। কীভাবে কী হয়ে গেল!”
মো. শহিদুল ইসলাম রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবির বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা শহিদুলের কাছে ছুটে যান। হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং মূর্ছা যান।
অধ্যক্ষ বলেন, “তাঁর জীবন বলতে ওই স্ত্রী আর দুই সন্তান। ওরাই ছিল তাঁর অবলম্বন। তাঁদের ঘিরেই ছিল তাঁর পৃথিবী, সব আনন্দ। সব হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন। আমরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।”
অধ্যক্ষ আরও জানান, রোববার সকাল ৮টায় শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ও সন্তানদের জানাজা শেষে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওছার আলী বলেন, ট্রাকের মালিক ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই বাংলা/এমএস