নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একটি ডুমুরগাছের কাটা ডাল থেকে বের হওয়া পানি পান করলে রোগ থেকে মুক্তি মেলে—এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ ঘটনাকে ঘিরে উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের বাঁশিলা উত্তরপাড়া গ্রামে ভিড় করছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ। গাছের কাটা ডালে বাঁধা হচ্ছে হাঁড়ি-পাতিল, যাতে জমা হচ্ছে ডাল থেকে বের হওয়া তরল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই এলাকার একটি ডুমুরগাছের ডাল কাটা হলে সেখান থেকে তরল বের হতে শুরু করে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ডালের সঙ্গে হাঁড়ি-পাতিল বেঁধে সেই তরল সংগ্রহ করতে থাকেন। তাঁদের কেউ কেউ এটি পান করে ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে উপকার পাওয়ার দাবি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম অমি, রায়হান মিনা, সুলতান খান ও সেকেন্দারসহ কয়েকজন জানান, গাছের ডাল কাটার পর আঠার পরিবর্তে পানির মতো তরল বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় দুই হাঁড়ি তরল জমা হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে তা সংগ্রহ করছেন।
এলাকায় আসা কয়েকজনের ভাষ্য, লোকমুখে শুনে তাঁরা সেখানে এসেছেন। কেউ কেউ ওই তরল পান করে ব্যথা কমেছে বলে দাবি করছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জুনায়েদ আহমেদ লেলিন বলেন, এ ধরনের পানি পান করলে রোগব্যাধি ভালো হয়ে যায়—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি বিষয়টিকে মানুষের ভ্রান্ত বিশ্বাস হিসেবে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটি ঘিরে যেন কোনো ধরনের কুসংস্কার বা বিভ্রান্তিকর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। কোনো অজানা তরল পান করে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে অসুস্থ হলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এই বাংলা/এমএস