বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উদ্যোগে আয়োজিত ১৩১তম ব্যাচের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে।
গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ছাগল ও মৎস্য চাষ পদ্ধতি বিষয়ক এ প্রশিক্ষণে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়াতে বাগেরহাটের মহিষ উন্নয়ন ও প্রজনন খামার এবং আঞ্চলিক হাঁস গবেষণা ও প্রজনন খামারে শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়মিত পাঠদান ও দিকনির্দেশনা দেন সিনিয়র প্রশিক্ষক সুরাত আলী, এইচ. এম. আহসান আকীব সুজন এবং প্রদর্শক রুহুল আমিন সেখ ও কাইয়ুম খান। প্রশিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
যুবসমাজকে এ ধরনের প্রশিক্ষণে আরও বেশি উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রেসক্লাব পিরোজপুরের দপ্তর সম্পাদক ও সাংবাদিক এম এ নকিব নাছরুল্লাহ নিজেও প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন। তিনি সফলতার সঙ্গে ‘এ প্লাস’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-আছরের প্রথম আয়াত ‘ওয়াল আছর’ তেলাওয়াত করে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন এম এ নকিব নাছরুল্লাহ। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করে মানুষের জীবন ও কর্মের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। দুনিয়ার কাজে সময়ের যথাযথ ব্যবহার ও পরিকল্পনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আখিরাতের সফলতার জন্যও সঠিক কর্মপন্থা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া শুধু পরিশ্রম করলেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায় না। নদীর পানি সেচে শুধু পরিশ্রমের মাধ্যমে শুকানো সম্ভব নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা ও শ্রমের সমন্বয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকে বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করেছে। সঠিক বুদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে এ অধিদপ্তর যুবকদের দক্ষ করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অধিদপ্তর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পুরোনো নেতিবাচক ধারণা ভুল প্রমাণ করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বর্তমানে যুবকদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সময় তিনি উপ-পরিচালকসহ প্রশিক্ষকদের ব্যবস্থাপনা, থাকা-খাওয়া ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দেন। তাঁরা যুবসমাজের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ১৩১তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সম্মাননা উপহার প্রদান করেন।
এই বাংলা/এমএস