ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বিষখালী নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে আবদুল মন্নান হাওলাদারের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেন স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত আবদুল মন্নান কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ট্রলার নিয়ে বিষখালী নদীতে ইলিশ ধরতে যান আবদুল মন্নান। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ট্রলার থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে তলিয়ে যান তিনি।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা দ্রুত উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তারা দীর্ঘ সময় নদীতে খোঁজাখুঁজি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আবদুল মন্নানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. পনির হাওলাদার বলেন, “হঠাৎ করেই তিনি নদীতে পড়ে যান। আশপাশের জেলেরা সঙ্গে সঙ্গে চেষ্টা চালিয়েও তাঁকে খুঁজে পাননি।”
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালায়।
কাঁঠালিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, নদীতে তীব্র স্রোত ছিল। খবর পাওয়ার পর বরিশাল থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিনের অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পরে নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার মধ্যরাতে পরিবারের সদস্যরা নিজস্ব ট্রলার নিয়ে বিষখালী নদীতে আবারও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত দেড়টার দিকে নিখোঁজ হওয়ার স্থানেই আবদুল মন্নানের লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্বজনেরা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় জমাদ্দার বাড়ি নূরানী ও হাফিজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
এই বাংলা/এমএস