শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে তিস্তার ভাঙনে হুমকিতে দুই শতাধিক পরিবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গত ২০ দিনে শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ দলদলিয়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া এলাকার দুই শতাধিক বাড়িঘর।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তার ভাঙনে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে বলে জানান তাঁরা।

দলদলিয়া ইউনিয়নের বসুনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর (৬৫) বলেন, তাঁর বাড়ি এর আগে সাতবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। আবারও ভাঙন শুরু হওয়ায় কোথায় যাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

মহুবর রহমান (৬৫) বলেন, গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা-বসুনিয়াপাড়া এলাকা রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু নদীর স্রোতে সেগুলোও বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

সখিনা বেওয়া (৯০) ও আনোয়ারা বেওয়া (৫০) বলেন, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁরা অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের কাছে তাঁরা সহযোগিতার দাবি জানান।

আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, নদীর দুই পাশে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও মাঝখানে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাঁর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙনে পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভাঙনে অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. আরিফ বলেন, তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, জিও ব্যাগের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর