চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে হাঁসপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে জটিলতা, স্বজনপ্রীতি ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে হাঁসপুকুর গ্রামের শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৩ সালে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় হাঁসপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জমি কেনার জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি না করে তৎকালীন কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরবর্তী সময়ে কিছু জমি বিদ্যালয়ের জন্য ফেরত দেওয়া হলেও একটি অংশ এখনো বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা হলেও তা পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য মেহেরুন্নেসা বেগম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাব বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনকারীদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী মিলে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। বিদ্যালয়ের কাগজপত্র সংরক্ষণ, বিভিন্ন কার্যক্রমের তদারকি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রধান শিক্ষকের স্বামীর প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অন্যদের মতামত দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থের ব্যবহার ও হিসাব-নিকাশ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বলে মানববন্ধনকারীরা দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে প্রধান শিক্ষক মেহেরুন্নেসা বেগমের অপসারণ, বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত করে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা, সরকারি বরাদ্দের অর্থের হিসাব যাচাই এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সংক্রান্ত বিষয় পুনর্বিবেচনার দাবিও জানান তারা।
স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদভিত্তিক জামাতের সর্দাররা বলেন, বিদ্যালয়কে ঘিরে দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বিদ্যালয়টি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিচালিত হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “বিষয়টি কিছুটা জানি। ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপারে আমার কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।” তবে বিস্তারিত জানতে সরাসরি দেখা করতে বলেন তিনি।
এই বাংলা/এমএস