সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেতাগীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষ সংকটে এক কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩৭ নম্বর করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পড়ে রয়েছে। ভবনটি অপসারণ বা নিলামের কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একটি কক্ষে একসঙ্গে দুই শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে এটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী নয়। এর আশপাশে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভবনটির ছাদের কিছু অংশ খসে পড়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় একটি কক্ষে একই সময়ে দুই শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ, পাঠ গ্রহণ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় একই কক্ষে দুই শ্রেণির ক্লাস নিতে হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের সংকটও অনেকটা দূর হবে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবনটি নিলামে অপসারণের পাশাপাশি সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভবনটির আশপাশে খেলাধুলা করায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ৩৭ নম্বর করুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিলামে তোলার জন্য ইতোমধ্যে তিন দফায় উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। দ্রুত এর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের সংকটও দূর হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর