বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি করে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৬ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তিনি ঝালকাঠি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত না করে লঘুদণ্ড হিসেবে বর্তমান বেতন গ্রেড থেকে দুই ধাপ নিচের গ্রেডে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকার সময় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের নামে ব্যাংকে জমা হওয়া ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৬ টাকা ৮০ পয়সা সুদের অর্থ ভুয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের তদন্তে মন্ত্রণালয় ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা দৈবচয়ন ভিত্তিতে কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভুয়া মাস্টার রোল তৈরির বিষয়টি সামনে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেলোয়ার হোসেন নিজেই ভুয়া মাস্টার রোল প্রস্তুত করে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পরে ব্যক্তিগত শুনানি ও অধিকতর তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা অসদাচরণ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রস্তাবসহ দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বরখাস্তের পরিবর্তে তার বর্তমান আহরিত বেতন গ্রেড থেকে দুই ধাপ নিচে অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শাস্তির আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার কোনো শাস্তি হয়নি—এ কথা মিথ্যা।’
এই বাংলা/এমএস