বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। প্রকল্পটির প্রাথমিক মূল্যায়ন ও প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট, সীমানা সুরক্ষা ও প্রাথমিক সাইট উন্নয়নের কাজ আগে থেকেই হওয়ায় নতুন করে জমি উন্নয়ন ও অধিগ্রহণের ব্যয় কমবে বলে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের কারণে প্রকল্প ব্যয় কমার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। তুলনায় ফেনীর সোনাগাজীর একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ট্যারিফ ৮ টাকা ৮৭ পয়সা। এ হিসাবে রামপালের প্রস্তাবিত ট্যারিফ প্রায় ৩০ শতাংশ কম।
প্রকল্পের বিদ্যুৎ বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, এ ধরনের প্রকল্প দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য উৎসের অংশ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যবহৃত জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় হতে পারে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে প্রকল্পটির একনেক অনুমোদন, বাস্তবায়নের সময়সূচি, ব্যয় ও ট্যারিফ—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরই নিশ্চিত হবে।
এই বাংলা/এমএস