শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

১৫ দিন ধরে বন্ধ চিলমারী-রৌমারী ফেরি, দুর্ভোগে চালক-শ্রমিক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে নাব্যতা সংকটের কারণে ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও শ্রমিকসহ দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) চিলমারী নদীবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েকটি পণ্যবাহী ভারী যানবাহন আটকা পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে চালক ও শ্রমিকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দিয়ে পরিচালিত এ নৌরুটটি মূলত ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নাব্যতা সংকটের কারণে গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফেরি চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় চিলমারী নদীবন্দরে যানবাহনের জট তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি সার্ভিস চালু হয়। শুরুতে দুটি ফেরি দিয়ে ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করা হতো। পরে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি দুটি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ‘কদর’ নামের একটি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৪১ বার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়েছে। বারবার ফেরি বন্ধ হওয়ার ঘটনায় নৌপথটির স্থায়ী সমাধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাটের প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। ড্রেজিং কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ড্রেজার পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও এখনো তা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে রৌমারী ঘাট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সেখানে ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ড্রেজিং কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে একপর্যায়ে খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকায় খননকাজ চালানোর চেষ্টা চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ফেরি সার্ভিস দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ফেরি সার্ভিস ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে নৌপথ সচল করলেই হবে না; নাব্যতা সংকটের স্থায়ী সমাধানে নিয়মিত ড্রেজিং ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে বারবার ফেরি বন্ধ হয়ে পণ্য পরিবহন ও জনসাধারণের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর