শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধ ঠেকাতে হিমশিম বন বিভাগ, দুই মাসে ৮৯ মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বন অপরাধবিরোধী অভিযানে গত দুই মাসে ৪৬ জনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময়ে ১০৮টি অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন বন অপরাধের ঘটনায় ৮৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে হরিণের মাংস, শিকারি ফাঁদ, নৌকা, ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জুন ও জুলাই মাসে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। দায়ের করা ৮৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি পিওআর, ৬৯টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে।

অভিযানে জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩০ কেজি হরিণের মাংস, প্রায় দেড় হাজার মিটার হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৮৯টি নৌকা, তিনটি ট্রলার, ৪৭ বোতল বিষ ও ৫৩টি মাছ ধরার জাল। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৬১০ কেজি চিংড়ি ও ১৮৫ কেজি সাদা মাছও জব্দ করা হয়েছে।

বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং বন্যপ্রাণী নিধনের মতো অপরাধ ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরিণ শিকারে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধারের ঘটনায় বন্যপ্রাণী শিকারের তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত বছরের একই সময়ে ১১০টি অভিযান পরিচালনা করে ৪৭ জনকে আটক এবং ৮২টি মামলা করা হয়েছিল। চলতি বছর অভিযানের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, নিয়মিত টহল ও অভিযানের ফলে সামগ্রিকভাবে বন অপরাধ কমছে। সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধে বনরক্ষীরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছেন।

তবে সুন্দরবনের বিশাল আয়তন ও জনবলসংকটের কারণে বন অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধন অব্যাহত থাকলে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলে। বন রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর