মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের বাড়িঘর ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী পারভীন বেগম সাটুরিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, গত রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হরগজ নয়াপাড়ার মোল্লাকান্দি এলাকার আলমগীর মৃধা, ফজলুল করীম শামীম, জাহাঙ্গীর মৃধা, আকাশ মৃধা, নুরুল ইসলাম মৃধা, আকবর, ফরহাদ আলী, বাহার উদ্দিন মৃধাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের নতুন দোচালা ঘর ভাঙচুর করেন। এ সময় তাঁরা বাধা দিতে গেলে হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার দুপুরে হরগজ নয়াপাড়ার মোল্লাকান্দি এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ঘরের দরজা ভাঙা এবং টিনের চাল ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঘরের সিমেন্টের খুঁটিগুলোতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ও ভাঙা অংশ দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, হরগজ মৌজার আরএস ২১৮৫ নম্বর খতিয়ানের ১৪৩২০ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ এবং ১৪৩২১ নম্বর দাগের ৫২ শতাংশসহ মোট ৬২ শতাংশ জমি নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন মৃধা গং ও মো. নুরুল ইসলাম গংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ-২ আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৪১/২০১৩।
সাবেক ইউপি সদস্যের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, “এই প্লটে মোট ১০২ শতাংশ জমি ছিল। মালিক ছিলেন দুই ভাই। এক পক্ষ জমি বিক্রি করতে করতে বর্তমানে ৪৬ শতাংশ জমি অবশিষ্ট রয়েছে। ওয়ারিশ সূত্রে আমরা ৫১ শতাংশ পাওয়ার কথা। কিন্তু অবশিষ্ট জমিও আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে ২০১৩ সালে মামলা করা হয়, যা এখনো চলমান।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা চলাকালীন ওই জমি থেকে আরও ১৪ শতাংশ বিক্রির জন্য বায়না নেওয়া এবং দলিলের কাগজপত্র প্রস্তুতের খবর পেয়ে তাঁরা রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযোগ করেন। পরে ওই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়। এরপর বিরোধ আরও বাড়ে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে সেই স্থাপনাই ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, “শুধু এই জমি নয়, ইসমাইল হোসেন মৃধাদের আরও ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।”
আরেক প্রতিবেশী জয়নাল হোসেন বলেন, একই তফসিলে ৪৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। মামলা নিষ্পত্তির আগে জমি বিক্রির অভিযোগ থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মামলার এক নম্বর অভিযুক্ত মো. আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মোশররফ হোসেন বলেন, “সাবেক মেম্বারের স্ত্রী বাদী হয়ে রোববার রাতেই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য সোমবার দুপুরে এসআই মোজাম্মেল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বাংলা/এমএস